নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে এক গৃহবধুর আত্মহত্যার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীতে। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের ন নম্বর ওয়ার্ডের ৩০ নং স্ট্রিট হর্ষবর্ধন রোডের F-24A আবাসনে। মৃতার নাম সুবর্ণা গুই (৩৭), তিনি এক কন্যা সন্তানের মা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুবর্ণার বাপের বাড়ি দমদম নাগেরবাজার এলাকায়। ১৯৯০ সাল থেকে তারা দুই বোন ও এক ভাইকে নিয়ে সপরিবারে সেখানেই থাকতেন। এরপর ৯ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল দুর্গাপুরের ডিভিসি কর্মী রঞ্জিত গুঁইয়ের সঙ্গে। সুবর্ণার আত্মঘাতী হওয়া প্রসঙ্গে তার জামাইবাবু শিব শংকর সাহা জানান, “এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে দায়ী করেন।”

অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে মৃতার বাবা জানান, সুবর্ণার ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও যেদিন থেকে এস আই আর প্রক্রিয়া চালু হয়েছে সেদিন থেকেই তার মনে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা প্রবল হতে থাকে।” মৃতার স্বামী রনজিত গুঁই বলেন, “মাঝেমধ্যেই নাগরিকত্ব হারানোর হারানোর কথা বলতো। আগামীকাল রাজ্যে প্রকাশিত হবে এস আই আর এর খসড়া। হয়তো সেই আতঙ্ক তাকে আরো বেশি আতঙ্কিত করায় এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও শুরু হয়েছে ন নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের ভোট রক্ষক মৈনাক ভট্টাচার্য বলেন, “এস আই আর এর ফলে নিরীহ মানুষদের বিনা অপরাধে মৃত্যুর কবলে পড়তে হচ্ছে। এখানেও এক নিরীহ মহিলার প্রাণ গেল। কেন্দ্রীয় সরকারের বোঝা উচিত এই প্রক্রিয়ার কারণে কত মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানা পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নাগরিকত্ব, ভোটার তালিকা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কের আবহে এই মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল- সাধারণ মানুষের মধ্যে সঠিক তথ্য ও ভরসার অভাব কি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে গোটা ইস্পাত নগরী।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

