দুর্গাপুর থানার বড়সড় সাফল্য!
চুরি যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার চুরি যাওয়া অলংকার ও নগদ অর্থ!
অভিযুক্ত দীপা যাদব ও দীপা শর্মা নামে দুই যুবতী গ্রেপ্তার!

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বড়সড় সাফল্য কয়েক ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার চুরি যাওয়া সামগ্রী ও নগদ অর্থ। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে একটি বাড়ি থেকে চুরি যায় নগদ ২ লক্ষ টাকা ও ২৫ ভরি সোনা ও এক কেজি রুপোর অলংকার। দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারের একে বিথির বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জীব কুমারের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। জানা যায় দীপা শর্মা নামে এক কিশোরী পালিত কন্যা হিসেবে এগারো বছর বয়স থেকে সঞ্জীব কুমারের বাড়িতে পরিবারের সদস্যের মতো ছিল। বর্তমানে দীপার বয়স ২২ বছর, দীর্ঘ ১১ বছর একই বাড়িতে পরিচারিকা হিসেবে নয় নিজের সন্তানের মতন থেকে সুযোগ বুঝে সেই বাড়ির নগদ অর্থ ও স্বর্ণ ও রুপোর অলংকার চুরি করে। জানা যায় ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জীব কুমার কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। সঞ্জীব বাবুর স্ত্রী নাগমনি দেবী ও তার বাবা মা সিটি সেন্টারের বাড়িতে থাকেন। আর সেই বাড়িতে ১১টা বছর কাটানোয় পরিচারিকা দীপা শর্মা এই বাড়ি সম্বন্ধে নারী নক্ষত্র জানা ছিল। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই চুরির ঘটনা ঘটায়। বাড়ির মালকিন নাগমণি দেবী বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন আলমারি থেকে টাকা এবং অলংকার উধাও। এরপর তিনি দীপা শর্মাকে সে বিষয়ে জানতে চাইলে দীপা বলে সে কিছুই জানে না। তৎক্ষণাৎ নাগমণি দেবী সিটি সেন্টার ফাঁড়িতে চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ দুর্গাপুর থানা একটি স্পেশাল টিম গঠন করে ওই বাড়ির তিনজন কাজের লোককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এরপরে দীপা শর্মা নামে ওই পরিচারিকার কথায় অসংলগ্নতা প্রকাশ পাওয়া যায়। পুলিশ তড়িঘড়ি দীপা শর্মার ফোন কল থেকে দীপা যাদব নামে দিল্লীবাসী এক যুবতীর ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে। সেই মুহূর্তে ফোন লোকেশন দীপা যাদব দুর্গাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায় দিল্লি বাসী দীপা যাদব যার হাতে পরিচারিকা দীপা শর্মা নগদ অর্থ ও অলংকার তুলে দিয়েছিল। সেই দীপা যাদব নগদ অর্থ ও স্বর্ণ ও রুপো অলংকার নিয়ে কালকা মেল ট্রেনের টিকিট কেটে দিল্লি যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছিল। সেই মুহূর্তে দুর্গাপুর পুলিশ দ্রুততার সাথে দুর্গাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দীপা যাদব কে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করে ট্রলি ব্যাগে থাকা নগদ অর্থ ও অলংকার সামগ্রী। এই ঘটনা প্রসঙ্গে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (ইস্ট) অভিষেক গুপ্তা সাংবাদিক বৈঠক করে জানান সিটি সেন্টার ফাঁড়ি এবং দুর্গাপুর থানার টিম দ্রুত তদন্ত করে এই সাফল্য পায় এবং ৪ ঘন্টার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

শুক্রবার ধৃত ২ যুবতীকে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিশের তরফ জানানো হয়েছে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা এবং এই দুজনের সম্পর্কই বা কতদিনের? কিম্বা এদের প্রকৃত ঠিকানাই বা কি?
ব্যুরো রিপোর্ট, Lcw India দুর্গাপুর