নতুন বছরের শুরুতেই পাণ্ডবেশ্বরবাসীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক উপহার দিলেন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। পাণ্ডবেশ্বর তথা সমগ্র খনি অঞ্চলে এই প্রথম বৈদ্যুতিক চুল্লীর উদ্বোধন হলো। বুধবার অজয় নদের তীরে অবস্থিত পাণ্ডবেশ্বর মহাশ্মশানে এই আধুনিক সাধারণ মানুষের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “এটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। পাণ্ডবেশ্বর এর সাধারণ মানুষের জন্য বৈদ্যুতিক চুল্লি খুলে দিতে পেরে আমি গর্বিত, আমার লক্ষ্য পন্ডবশ্বর একটি মডেল পাণ্ডবেশ্বর হিসাবে গড়ে তোলা।” তিনি আরো জানান, “গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের বৈদ্যুতিক চুল্লি এই অঞ্চলে এই প্রথম স্থাপিত হলো।”

চুল্লিতে শবদাহের জন্য দুর্গাপুরের বীরভানপুর অথবা রানীগঞ্জ সংলগ্ন মেজিয়া শ্মশান ঘাটে যেতে হতো। খনি এলাকা থেকে এই স্থানগুলির দূরত্ব যথেষ্ট বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষকে নানান অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো। পান্ডবেশ্বর শ্মশান ঘাটে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানো হওয়ায় এবার এই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষজন।

এই প্রকল্পের রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে উখড়া রোটারী ক্লাব। পাশাপাশি ‘দে গ্রুপ’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের সিএসআর প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেছে। বৈদ্যুতিক চুল্লি ও আনুষাঙ্গিক পরিকাঠামো উন্নয়ন মিলিয়ে মোট পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। এখানে মোট দুটি চল্লিশ স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী সোমাতনন্দ জী মহারাজ, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত, ‘দে গ্রুপ’ সংস্থার কর্ণধার বিশ্বদীপ দে ও সন্দীপ দেসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রসঙ্গত এই বৈদ্যুতিক চুল্লির পরিচালনার দায়িত্ব পাণ্ডবেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক জানান এই প্রকল্পের ফলে শুধু পাণ্ডবেশ্বর নয় পার্শ্ববর্তী বীরভূম জেলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India পাণ্ডবেশ্বর

