নুন ছিটিয়ে পচা গন্ধ ঢাকার নৃশংস চেষ্টা, শেষ রক্ষা হলো না! দুর্গাপুরের ডি-সেক্টর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বুধবার সকালে এমনই এক হাড় হিম করা ঘটনা সামনে পড়ল পুলিশ ও এলাকাবাসী।
দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালে আয়া হিসেবে কর্মরত আনুমানিক বছর ৫৫র ছবি দাসের কঙ্কালসার দেহ উদ্ধারে গিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং খুনের অভিযোগে মৃতার স্বামী প্রদীপ চক্রবর্তী ওরফে টিপুকে আটক করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডি-সেক্টর মার্কেটের বিপরীতে মন্দিরের পেছনে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আবাসনে প্রদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে থাকতেন ছবি দাস। বুধবার সকালে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধ বেরুতে শুরু করলে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিভীষিকাময় দৃশ্য– নুন ছড়ানো ঘরের মধ্যে পড়ে রয়েছে একটি কঙ্কালসার দেহ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান – বেশ কয়েকদিন আগেই খুন করা হয়েছে ছবি দাসকে। মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো আটকাতেই নুন ঢেলে দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল স্থানীয় বাসিন্দা অ্যান্থনি ডিসুজা বলেন,” ছবি দাস খুব ভালো মানুষ ছিলেন কয়েক মাস ধরে স্বামীর সঙ্গে আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছিল। সেই থেকেই এই খুন আমরা এর কঠোর শাস্তি চাই।”

মৃতার এক সহকর্মী কৃষ্ণা পাত্র জানান, “দুর্গাপুজোর পর থেকে ছবিকে দেখা যায়নি। শোনা যায়, প্রায় দু আড়াই মাস সে বিধাননগর হসপিটালে ভর্তি ছিল। এরপরে আজ সকালে তার দেহ উদ্ধার হয়। ছবির কোন আত্মীয়-স্বজন এখানে নেই সে প্রদীপের সঙ্গেই থাকতো। তার উপার্জিত অর্থ প্রদীপ বাবু নিয়ে নিত, এইটা একটি পরিকল্পিত খুন আমরা দোষীর শাস্তি চাই।”

ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি দুর্গাপুর সুবীর রায়, সি আই রণবীর বাগ, দুর্গাপুর থানার আধিকারিক সঞ্জীব দে সহ অন্যান্য আধিকারিক ও পুলিশ। এসিপি দুর্গাপুর সুবীর রায় জানান, “একটি কঙ্কালসার মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে আটক করা হয়েছে তার স্বামীকে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে। এখন এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।”

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, ময়নাতদন্তে রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় আরো স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এলাকাটি কর্ডন করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
নিরবে ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে থাকা এক নারীর জীবন ও মৃত্যুর এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল– ঘরের চার দেওয়ালের আড়ালে কি ঠিক কতটা নিরাপদ নারীরা??
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

