অমাবস্যা তিথিতে মহা ধুমধাম এর সঙ্গে শক্তি আরাধনায় মেতে উঠলো বাঁকুড়া জেলার বিদ্যাধরপুর গ্রাম। জগৎ তারিনী মা কালীর পুজোকে কেন্দ্র করে টানা চার দিন ধরে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই পুজোকে ঘিরে শুধু ধর্মীয় আচার নয় মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিদ্যাধরপুর গ্রামের বাসিন্দা কালী সাধক তপন দত্ত ও তার পরিবার। এই জগত তারিণী কালীপুজোর সূচনা হয়েছিল বহু বছর আগে রাঙ্গামাটি এলাকায়। দীর্ঘদিন কালির সাধনার পর সাধক তপন দত্ত নিজের বাড়িতেই মাকে প্রতিষ্ঠা করেন।

সেই থেকেই বিদ্যাধরপুর গ্রামে মহা আড়ম্বরের সঙ্গে কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রায় ৪০বছর ধরে দত্ত পরিবারের সদস্য পরমনিষ্ঠা ও ভক্তি ভরে আরাধনায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। পুজোকে কেন্দ্র করে দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় গ্রামে। তন্ত্র মতে মায়ের আরাধনা ছাগলীর প্রথাও পালিত হয়। পাশাপাশি নরনারায়ণ সেবার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার ভক্ত মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন। মাতৃ শক্তির আরাধনা করে এই ধরনের একটি অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে কালী সাধক তপন দত্ত জানালেন শুনে নেয়া যাক।

মানবসেবার অঙ্গ হিসেবে এই উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক বৃহৎ স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের। সেখানে ভক্ত ও গ্রামের বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মোট ৮৫ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও গ্রামের ও পার্শ্ববর্তী এলাকার দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। যা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ধর্মীয়, সামাজিক ও সংস্কৃতিক মিলন মেলা লক্ষ্য করা যায়। বাউল গান, যাত্রা পালা এবং হরিনাম সংকীর্তন এর আয়োজনে গ্রাম জুড়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়।

ধর্মীয় সাধনা সমাজসেবার এই যুগলবন্দী বিদ্যাধরপুরের জগত তারিণী কালীপুজোকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। ভক্তি, সংস্কৃতি ও মানবতার এক অনুপম মেলবন্ধনে এই পুজো আজ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
অমৃতা দাস, Lcw India বাঁকুড়া

