মঙ্গলবার ভোর থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার একাধিক এলাকায় একযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দুর্গাপুরের বেঙ্গল অম্বুজা ও সেপকো টাউনশিপ এলাকা ছাড়াও পানাগর, পাণ্ডবেশ্বর, জামুরিয়া ও রানীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে চলে ধারাবাহিক তল্লাশি। এর জেরে এলাকাগুলোতে উত্তেজনাময় পরিবেশ।

এদিন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন বুদবুদ থানার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি মনোরঞ্জন মন্ডলের বেঙ্গল অম্বুজার বাড়িতে টানা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘ সময় ধরে নথিপত্র খতিয়ে দেখা, একাধিক দফায় জেরা ও কড়া নিরাপত্তার বলয়ে অভিযান চালানোর পর কার্যত খালি হাতেই ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।

অন্যদিকে সেপকো টাউনশিপ এলাকায় বালি ব্যবসায়ী, প্রবীর দত্তের বাড়িতে ১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালানো হলো সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো নথি, নগদ অর্থ বা বেআইনি সম্পদের সন্ধান মিলেছে কিনা সে বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। এর ফলে সামগ্রিক ছবিটি অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট থেকে যায়।
এই অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- পশ্চিম বর্ধমান জেলার ইতিহাসে এই প্রথম কোন কর্মরত পুলিশ আধিকারিককে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেলার মুখোমুখি হতে হল। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সব জায়গায় ফল এক রকম নয়। একই দিনে জামুরিয়া এলাকায় ব্যবসায়ী রাজেশ অঞ্চলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাগ ভর্তি নগদ টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। এই ঘটনাকে সামনে রেখেই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে প্রশ্ন — তবে কি কিছু নির্দিষ্ট অভিযানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৎপরতা বেশি দেখা যায়! সব থেকে বড় প্রশ্ন উঠেছে সময় নির্বাচন নিয়ে – নির্বাচনের মুখে কেন বারবার এমন অভিযান? ভোট এলেই কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সক্রিয়তা বেড়ে যায়? সত্যিই কি দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলাই একমাত্র লক্ষ্য, নাকি এর আড়ালে অন্য কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে ? এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। যদিও এ বিষয়ে শাসক দলের পক্ষ থেকে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই জরুরি। তবে সেই লড়াই যদি প্রশ্নাতীত না হয়, তবে তার বিশ্বাসযোগ্যতাই বড় ধাক্কা খায়। ভোটের আগে বারবার তল্লাশি, ‘দীর্ঘ জেরা অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খালি হাতে ফেরা’– এই প্রবণতা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

