দুর্গাপুর ক্লাব সমন্বয় কর্তৃক আয়োজিত এবং বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় লালবাবা রাইস দুর্গাপুর স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন হয়ে গেল রবিবার সকালে। আন্তর্জাতিক মেরাসুন দৌড় দিয়ে শুরু হয় স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার হোসে ব্যারেট, এশিয়ান স্বর্ণপদক বিজয়ী সোমা বিশ্বাস, এশিয়ান ব্রোঞ্জ পদক বিজয়ী হিমাশ্রী রায়, মিসেস ইন্ডিয়া সাইনী সরকার, বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন রায়চৌধুরী, লালবাবা রাইসের পরিচালক পার্থসারথি নন্দী, দুর্গাপুর ক্লাব সমন্বয়ের সভাপতি সন্দীপ দে এবং রেস ডিরেক্টর প্রশান্ত সাহা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ২১ কিমি,১০ কিমি, ৫ কিমিও ২ কিমি দৌড় বিভাগে বিভিন্ন বয়সের এবং পটভূমির তিন হাজারেরও বেশি দৌড়বিদ উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

২১ কিঃমিঃ (হাফ ম্যারাথন) -মহিলা বিভাগে রেনু সিং ১:১৮:৫৮ চিত্তাকর্ষক সময়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পুরুষ বিভাগে পঞ্চানন বেড়া ১:০৫:২৪ সময় নিয়ে বিজয়ী হন।
১০কিঃমিঃ দৌড়ে মহিলা বিভাগে- পূজা ভার্মা ৩৪:০৫ মিনিটের সময় নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। পুরুষ বিভাগে শুভম বালিয়ান ৩০:০১ মিনিটে দৌড় শেষ করে এ বিভাগের শীর্ষ স্থান অধিকার করেন।

এ দিনের বিশিষ্ট অতিথি প্রাক্তন ফুটবলার হুঁশ হয়ে ব্যারেটো জানান দুর্গাপুরে আসছে তার বরাবরই ভালো লাগে। এবং এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এদিন ম্যারাথনে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তার বিশেষ নজর কেড়েছে। তার মতে এই বিপুল অংশগ্রহণ দুর্গাপুর শহরের সমৃদ্ধ ক্রমবর্ধমান ক্রীড়া সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
এই ম্যারাথনে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগগুলিতে মোট পাঁচ লক্ষ টাকার পুরস্কারের পাশাপাশি সমস্ত নিবন্ধিত দৌড়বিদদের জন্য অফিসিয়াল টি শার্ট ফিনিশার মেডেল এবং ডিজিটাল ভাবে সময় নির্ধারিত সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। শুধু আন্তর্জাতিক ম্যারাথন দৌড় নয় পাশাপাশি আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে – ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, খো খো, টেবিল টেনিস, ব্রিজ সহ একাধিক ইনডোর আউটডোর ক্রীড়া।

আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের সফল সমাপ্তির পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্গাপুর ক্লাব সমন্বয়ের সভাপতি শ্রী সন্দীপ দে বলেন প্রথমবার দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের বিপুল অংশগ্রহণ এবং ত্রুটিহীন আয়োজন আমাদের এই বিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করেছে, যে দুর্গাপুরে একটি প্রধান ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে প্রস্তুত। এই অনুষ্ঠানটি একটি শক্তিশালী ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং তরুণদের ফিটনেস শৃঙ্খলা ও শীর্ষ থেকে গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করার দিকে একটি পদক্ষেপ। এদিনের উৎসবমুখর পরিবেশে একটি দুর্দান্ত সকাল কাটানোর অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন উপস্থিত সকল ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাদের কথায় — “আজকের দিনটি শুধু দুর্গাপুর শহরের জন্যই নয়। ক্রীড়া প্রেমী ও ম্যারাথনপ্রেমীদের কাছেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”আন্তর্জাতিক এই ম্যারাথনকে সফল করে তোলার জন্য দুর্গাপুরবাসীর উদ্যোগ আন্তরিকতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতন। সফল অভিষেকের মাধ্যমে দুর্গাপুর আন্তর্জাতিক ম্যারাথন একটি বার্ষিক বার্ষিক ক্রীড়া কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে, যা আগামী দিনে ভারতের ক্রীড়া ইকোসিস্টেমে দুর্গাপুরের ক্রমবর্ধমান মর্যাদাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

