দুর্গাপুরের ইস্পাত আবাসনের এ-জোন, হর্ষবর্ধন রোডের ২৭ নম্বর স্ট্রীটে অবস্থিত ‘জুনিয়র স্পোর্টিং ক্লাব’ এ বছর তাদের সরস্বতী পুজো পথ চলার ১৫ তম বর্ষে পা রাখল এক অন্যরকম ভাবনায়। সরস্বতী পুজোর থিম হিসেবে তারা বেছে নিয়েছে চিরসবুজ সাহিত্যকৃতি – সুকুমার রায়ের “আবোল তাবোল”।
আজকের দিনে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনার চাপে পড়ুয়াদের জীবন ক্রমশ হয়ে উঠেছে যান্ত্রিক। পরীক্ষার নম্বর, প্রতিযোগিতা আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ। অনেকেই আর চেনেনা সেইসব কবি লেখকদের যাদের লেখা এক সময় হাসিয়েছে, ভাবিয়েছে আর কল্পনার জগতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। এই ভাবনা থেকেই এ বছর জুনিয়র স্পোর্টিং ক্লাবের থিম – “আবোল তাবোল” যেখানে কেবল মন্ডপ নয়, প্রাণ পেয়েছে ননসেন্সের রঙিন জগত, শিশুতোষ কৌতুক আর গভীর ব্যঙ্গের মেলবন্ধন। ক্লাব সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মন্ডপ জুড়ে ফুটে উঠেছে সুকুমার রায়ের সৃষ্ট চরিত্ররা – হাস্যরসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সমাজবোধ আর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। এই ধরনের অভিনব থিম কি কারনে সেই সম্বন্ধে ক্লাব সদস্য শুভেন্দু কি জানলেন শোনাবো আপনাদের।

এই থিম যেন দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় – পড়াশোনার বাইরেও এক সমৃদ্ধ সংস্কৃতিক জগৎ, যেখানে শৈশবের মুক্ত হাসি আজও প্রাসঙ্গিক।
তবে আজ এই আনন্দের আবহেই লুকিয়ে আছে এক গভীর বেদনার গল্প।
এই ক্লাবেরই সদস্য বিশ্বরূপে বর্তমানে মারণব্যাধি ক্যান্সারের চতুর্থ ধাপে লড়াই করছেন। চিকিৎসকদের মতে তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা – যা একটি সাধারণ পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। প্রিয় বন্ধুর এই কঠিন সময়ে জুনিয়র স্পোর্টিং ক্লাব শুধুমাত্র একটি পুজো আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা এই মণ্ডপকে পরিণত করেছে এক মানবিক আবেদন মঞ্চে।

ক্লাব সদস্যদের একটাই স্বপ্ন সবার ছোট ছোট সহযোগিতায় যেন তাদের বন্ধু আবার জীবনের পথে ফিরে আসতে পারে তাই তারা আগত দর্শনার্থী এবং এই প্রতিবেদন পড়া সকল সহৃদয় মানুষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন – যদি সামান্য সাহায্যও করা সম্ভব হয়, তবে সেটাই বিশ্বরূপের জীবনের জন্য বড় আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
আবোল তাবোল এর অদ্ভুত হাসির আড়ালে লুকিয়ে এইবার আছে বাস্তব জীবনের এক নির্মম সত্য আর সেই সত্যকে সামনে রেখে জুনিয়র স্পোর্টিং ক্লাব বিশ্বাস করে – মানুষের পাশে মানুষ থাকলেই, অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

