বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগের প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরিহারা ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা! এদের মধ্যে দুর্গাপুরের দুটি স্কুলের ১২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা চাকরি খুইয়েছেন! কি করে পরিবার চালাবেন সে বিষয়ে দুশ্চিন্তায় চাকরি হারারা!

২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন দ্বারা পরিচালিত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল। উঠেছিল এই প্রক্রিয়ায় ২৩ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন ২৪ হাজার ৬৪০ টি পদের জন্য । কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ২৫ হাজার ৭৫৩ টি নিয়োগ পত্র ইস্যু করা হয়েছিল। যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এই অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে পুরো ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল করে এবং ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ পত্র অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর আদালত নির্দেশ দেয় যে যারা এই সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে এবং এসএসসি কে নতুন ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের ঘোষণার পর জানা যায় দুর্গাপুরের নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয় এর ৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক ওই তালিকায় রয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় শোনার পরই দুশ্চিন্তায় পড়ে নেপালি পারা হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ডাক্তার কলিমুল হক বলেন তার স্কুলে ৪ হাজার ২ শো জন পড়ুয়া রয়েছে। ৩৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা তাদের শিক্ষাদান করতেন। তাদের মধ্যে আটজনের চাকরি বাতিল হয় স্কুল চালানো অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চাকরি বাতিলের খবর পেয়ে দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে শিক্ষিকা সুনিমা মন্ডল বলেন, “আমাদের কি ভুল ছিল”? সমস্ত কিছুর যাচাই করার পর চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। আজ আমাদের চাকরি বাতিল হলো এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না!

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় দানের ফলে সামগ্রিকভাবে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। ন্যায়ের রায়, দুর্নীতির চাকরি বাতিল! স্বচ্ছ নিয়োগের পথে হাঁটবে পশ্চিমবঙ্গ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্য সরকারকে তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এছাড়াও আদালত মানবিক কারণে প্রতিবন্ধী কর্মচারীদের চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায়ের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসছে।