১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে চালকের বুদ্ধিমত্তায় এড়ালো ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
এক মুহূর্তের অসতর্কতা যেখানে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে সেখানে এক মুহূর্তের সাহসী হয়ে উঠল জীবন দায়ী। বৃহস্পতিবার দুপুরে 19 নম্বর জাতীয় সড়কের পেয়ালা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এমনই এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনার সাক্ষী থাকলো পথচারী ও যাত্রীরা। আসানসোল অভিমুখে যাওয়ার সময় একটি স্কুটির টায়ার হঠাৎ পাংচার হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটিটি সামনে থাকা ছাই বোঝাই একটি ডাম্পার ঠিক সামনে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যেতে পারতো এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা – মৃত্যু যেন নিঃশ্বাসের দূরত্ব। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই সাহসিকতা ও মানবিকতার অনন্য নজির গড়ে তোলেন ডাম্পার চালক নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও তিনি মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাম্পারটিকে রাস্তার ডিভাইডারের দিকে ঘুরিয়ে দেন। প্রবল গতিতে গিয়ে ডিভাইডারের ব্যারিকেট ভেঙে গাড়িটি মাঝের অংশে তুলে দেন। এই দুঃসাহসিক সিদ্ধান্তেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান স্কুটিতে থাকা স্বামী স্ত্রী ও তাদের কন্যা সন্তান।

ঘটনায় কুটি আরোহীরা, সামান্য আহত হলেও কোনো প্রাণঘাতী ক্ষতি হয়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর ট্রাফিক গার্ড ও মুচিপাড়া ট্রাফিক গার্ড তাদের তৎপরতায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা কি জানালেন শোনাবো আপনাদের…

ডাম্পারচালক নিজেও সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছেন যদিও তার গাড়ির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে তবুও অটুট রয়েছে তার মানবিকতার দৃষ্টান্ত – যা আজকের দিনে সত্যিই বিরল। এই ধরনের একটি দুর্ঘটনা থেকে একটি পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা প্রসঙ্গে কি জানালেন ডাম্পার চালক শুনে নেব।

এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল, সব দুর্ঘটনাই ভাগ্যের লিখন নয়; অনেক সময় মানুষের উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধই জীবন মৃত্যুর ফারাক গড়ে দেয়। যেখানে প্রায়শই চালকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ ওঠে, সেখানে এই ডাম্পার চালকের সাহস তিনটি প্রাণ সমাজকে ফিরিয়ে দিল। এমন মানবিকতা শুধু প্রশংসার নয়, অনুকরণেরও যোগ্য।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

