দূষণ, ধোঁয়া আর যান্ত্রিক কোলাহলের জন্য পরিচিত শিল্প নগরী দুর্গাপুর। অনেকের কাছেই এই শহর মানে কারখানার জিমনি ধুলো মাখা রাস্তা আর ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসা শ্বাস নেওয়ার জায়গা। কিন্তু এই পরিচয় এর আড়ালে নিরবে আর অবিচল নিষ্ঠায় টানা ৪৬ বছর ধরে এক অন্য দুর্গাপুর গড়ে তুলেছেন কিছু সাধারণ মানুষ – বিশেষ করে গৃহবধুরা। দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় পিসিবিএল কেমিক্যালস কারখানার আবাসন এলাকায় অনুষ্ঠিত পুষ্প ও সবজি প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা নিছক একটি বাৎসরিক অনুষ্ঠান নয়। এটি এক দীর্ঘ পথ চলার দলিল। ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুল আর সবজির মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার যে বার্তা তাঁরা দিয়ে চলেছেন তা আজকের দিনে আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। এবছরের প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় ৪৬ জন মহিলা প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ যেন সময়ের সঙ্গেই পা মিলিয়ে চলার প্রতীক। এখানে শুধু বাহারি ফুল নয়, রাসায়নিক সারবিহীন জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজিও নজর কেড়েছে। এই ধরনের প্রদর্শনীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন সম্পর্কে কি জানালেন আবাসনের মহিলা সদস্য শুনে নেব…

প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের যে শিক্ষা বিশ্ব আজ নতুন করে আবিষ্কার করেছে। এই আবাসনের বাসিন্দারা তা বহু আগেই নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করেছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক – এই প্রতিযোগিতায় কেউই পরাজিত নয়। প্রত্যেক প্রতিযোগীকেই পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এক গভির মানবিক বার্তা বহন করে। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, আছে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি। আছে সম্মিলিত প্রচেষ্টার সম্মান। এই ধরনের একটি প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে পিসিবিএল এর আধিকারিক সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, “এই প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ৪৬ তম বর্ষে পদার্পণ করল। এই ধরনের আয়োজন শুধু সৌন্দর্যায়নের জন্য নয়। বরং প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বচ্ছন্দ ও দূষণমুক্ত করাই লক্ষ্য।”

আজ যখন পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে বড় বড় পরিকল্পনা, নীতি আর আলোচনার ভিড়, তখন দুর্গাপুরের এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয় বড় পরিবর্তনের শুরু হয় ছোট উদ্যোগ থেকেই। একটি টব,একটি গাছ, একটি যত্নশীল হাত এই সামান্য থেকেই গড়ে ওঠে সবুজের ভবিষ্যৎ। শিল্প নগরীর বুকে এই সবুজের জয়গান প্রমাণ করে, ইচ্ছে থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও সম্ভব আশার বাগান গড়ে তোলা। দুর্গাপুরের এই নীরব আন্দোলন শুধু একটি এলাকার গল্প নয়। এ এক অনুপ্রেরণা যা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র।

সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

