সাধ্য, সংকল্প আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে কোন সীমাবদ্ধতাকেই জয় করা যায়। আবারও তা প্রমাণ করলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের কিক বক্সাররা। গত ৪ঠা থেকে ৮ই ফেব্রুয়ারি রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ কিকবক্সিং অর্গানাইজেশনস্ (WAKO) আয়োজিত পঞ্চম ইন্ডিয়া ওপেন ইন্টারন্যাশনাল কিকবক্সিং কাপে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন দুর্গাপুরের খেলোয়াড়রা। এই প্রতিযোগিতায় ভারত ছাড়াও প্যালেস্টাইন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্থান, ইরাক, আলজেরিয়া সহ মোট ১৬টি দেশের প্রায় এক হাজার জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। বাংলা থেকে ১২ জন খেলোয়াড় মোট কুড়িটি পদক জয় করেন। তার মধ্যে তিনটি স্বর্ণ ও আটটি রৌপ পদক ও সহ মোট ১১টি পদকই আসে পশ্চিম বর্ধমান জেলার ঝুলিতে – যা নিঃসন্দেহে জেলার ইতিহাসে এক গর্বের অধ্যায়। মাত্র আট বছর বয়সী গুরান্স চাইল্ড ক্যাটাগর পয়েন্ট ফাইভ প্লাস ৩৬ বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে সকলের নজর কাড়ে। পাশাপাশি তিনি আরও দুটি ইভেন্টে দুটি রৌপ পদক অর্জন করে প্রমাণ করেন, ভবিষ্যতের কিকবক্সিং এ সে এক উজ্জ্বল নাম হতে চলেছে।

বেনাচিতির বাসিন্দা, রূপঙ্কর রায় ওল্ডার ক্যাডেট ক্যাটেগরির মাইনাস ৬৯ কেজি বিভাগে পয়েন্ট ফাইভ ও লাইট কন্টাক্ট এ দুটি রৌপ পদক অর্জন করে। পাশাপাশি ফর্মস বিভাগে একটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ পদক জিতে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে। মুচিপাড়া আইটিআই এলাকার বাসিন্দা পেশায় অটোচালক ও এল এস এম কিকবক্সিং একাডেমীর প্রশিক্ষক ঈশ্বর মাঝি সিনিয়র পুরুষ ক্যাটাগরিতে দুটি ইভেন্টে দুটি রৌপ পদক জয় করেন। পদক জয় করে ফিরে দুর্গাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। আজ আন্তর্জাতিক স্তরে লড়াই করতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। আগামী দিনে যদি কোন সহৃদয় ব্যক্তি বা সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে বিশ্ব কিকবক্সিং এর দরবারে দেশের হয়ে আরও ভালো ফল করতে পারব।”

অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস কিকবক্সিং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান একটি ইভেন্টে স্বর্ণ ও অন্যটিতে রৌপ পদক জিতে দলের সাফল্যকে আরো সমৃদ্ধ করেন।

দুর্গাপুরের এল এস এম কিকবক্সিং একাডেমি সভাপতি অঞ্জন রায় বলেন,” আজ আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান একাডেমীর প্রধান প্রশিক্ষক ঈশ্বর মাঝির। তার নিরলস পরিশ্রমে ছাত্ররা আজ বিশ্ব মঞ্চে পৌঁছেছে এই সাফল্য আমাদের গর্বিত করেছে।”

অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, অপ্রতুল সুযোগ আর কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও যে স্বপ্ন দেখা যায় এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় – পশ্চিম বর্ধমানের এই কিকবক্সাররা তার জীবন্ত উদাহরণ। তাদের এই সাফল্য শুধু পদক জয় নয় বরং আগামী প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

