দুর্গাপুরের কোকওফেন থানার অন্তর্গত শবরভাঙ্গা এলাকায় ভৈরবপুর গ্রামে জমির মালিকানা ও ভাগচাষ নিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জমি কার – মালিকের নাকি ভাগচাষীর ? এই প্রশ্নকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিবাদ। এই বিবাদ এর জট কাটাতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সাক্ষী থাকলে এলাকা মুমূর্ষ অবস্থায় থাকা জমির মালিক পিয়া বাউরীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরাসরি জমির সামনে নিয়ে আসা হয়। তবে এতেও বলেনি ভাগচাষী পরিবারের মন সমাধান সূত্র মেনে নিয়ে সমস্যার। পিয়া বাউরী জানান প্রায় চার বছর আগে চাষের জন্য জমিটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালে ভুল চিকিৎসার কারণে তার কিডনি বিকল হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত অর্থ ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে নিত্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, অর্থাভাবে ছেলে মেয়ের পড়াশোনা বন্ধের মুখে।
পিয়া বাউরির স্বামী কিষান বাউরী জানান, চার বছর আগে জমি কেনার পর স্থানীয় রামা বাউরীকে চাষের জন্য দেওয়া হয়েছিল এবং তার নামেই বর্গা নথিভূক্ত ছিল । দু’বছর আগে রামা বাউরির মৃত্যুর পর তার দুই ছেলে বিধান বাউড়ি ও পবিত্র বাউরী, জমিটি চাষ করত। তবে শেষ দু’বছর তারা নিজেরা চাষ না করে অন্য চাষী দিয়ে জমি চাষ করালেও মালিকপক্ষকে কোন ভাগ দেয়নি বলে অভিযোগ। পীর চিকিৎসায় ইতিমধ্যে ১০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে জানান কিশান বাউরী।
দেনার দায়ে জর্জরিত পরিবার এখন জমিটি বিক্রি করে স্ত্রীর চিকিৎসার করার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ বর্গাদারের দুই ছেলে তাকে লাগাতার হুমকি দিচ্ছে। কিষান বাউরির দাবি বর্গাদার পরিবার যদি তাদের ভাগের নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে বাকি জমি ছেড়ে দেয় তবে তিনি জমিটি বিক্রি করে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ চালাতে পারবেন নতুবা আত্মঘাতী ছাড়া অন্য কোন পথ তার কাছে নেই। যদিও এই বিষয়ে বর্গাদার পরিবারের মহিলা সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা মুখ খুলতে চাননি। তাদের বক্তব্য, পরিবারের অভিভাবকরা এখন নেই তাই তারা কিছু বলতে পারবেন না। উল্লেখ্য এই ঘটনার আগে কিশান বাউরী কোক ওভেন থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তার অভিযোগ।
অ্যাম্বুলেন্সে করে মরণাপন্ন এক মহিলাকে জমির সামনে আনার দৃশ্য যেন গোটা সমাজের কাছে এক নির্মম প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল — মানবিকতার ঊর্ধ্বে কি তবে জমির দখল??

