২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমাজের অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা বঞ্চিত মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে শুরু করেছিল লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভর করে তোলায় এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রথম পর্যায়ে এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের মাসিক ৫০০ টাকা করে দেওয়া হতো। পরিবর্তিকালে রাজ্য সরকার এই অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করে সাধারণ শ্রেণীর মহিলাদের জন্য ১০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি ভুক্ত মহিলাদের জন্য ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালের বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আরো একধাপ অগ্রগতি ঘোষণা করেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ শ্রেণীর মহিলারা এখন থেকে মাসে ১৫০০ টাকা এবং অনগ্রসর জাতিভুক্ত মহিলারা পাবেন ১৭০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা।
এই ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে মহিলাদের মধ্যে দেখা যায় প্রবল খুশির উচ্ছ্বাস কোথাও মহিলারা মিষ্টিমুখ করছেন আবার কোথাও সবুজ আবিরে নিজেদের রাঙিয়ে আনন্দ উদযাপন করছেন। বহু উপভোক্তা জানান এই অতিরিক্ত অর্থ তাদের সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে এবং নিজেদের আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি ঘোষনার পরের দিনই সকলের একাউন্টে পৌঁছল টাকা। আনন্দিত মহিলারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন তাদের কথায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প তাদের জীবনে আর্থিক স্বস্তি ও নিরাপত্তা এনে দিয়েছে। অনেকেই আরো জানান ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা বিপুল ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বিজয় করে আবারো বাংলার মসনদে দেখতে চান।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প আজ শুধু একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি নয়, বরং বাংলার লক্ষ লক্ষ মহিলার কাছে আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

