রমজানের সংযম ও আত্মশুদ্ধির এক মাস পর আসে খুশির ঈদ- ভালোবাসার ভাগাভাগি আর মিলনের বার্তা নিয়ে। সেই আবহাওয়াকেই আরো বিস্তৃত করে দুর্গাপুরের মসজিদ মহল্লার- দেশবন্ধু নগর এলাকায় আলম ভাইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত হল ঈদ মিলন উৎসব- যা এ বছর ১৮ তম বর্ষের পদার্পণ করল।

গত ১৭ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরের অনুষ্ঠানেও হয়ে উঠল এক অনন্য মিলনমেলা। প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাঙ্গণ ভরে উঠেছিল সম্প্রীতির উজ্জ্বল রঙে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ একত্রিত হয়ে প্রমাণ করলেন – উৎসব শুধু কোনো একটি সম্প্রদায়ের নয়, এটি সকলের।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সকল আমন্ত্রিত অতিথিদের মঞ্চে সম্বর্ধনা জানানো হয়। উদ্যোক্তা আলম ভাই তার বক্তব্যে বলেন আমরা সকলকে নিয়ে পবিত্র ঈদ উৎসব পালন করি আমরা যেমন হিন্দুদের দুর্গাপূজা বা কালীপূজায় শামিল হই। ঠিক তেমনই আমাদের এই ঈদ মিলন উৎসবেও হিন্দু ভাই ও বোনেরা সমানভাবে অংশগ্রহণ করেন।”

এই ঈদ মিলন উৎসব কে বলে একটি অনুষ্ঠান নয় — এটি হয়ে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও ভাতৃত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্তমান সময়ে যখন বিভাজনের নানা কথা শোনা যায়, তখন এমন উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানবতায় এক। উৎসবের আসল আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার সাথে ভাগ করে নেওয়া যায়। দুর্গাপুরের এই ঈদ মিলন উৎসব আমাদের শেখায়– সম্প্রীতির আলোই সমাজকে সত্যিকারের সুন্দর করে।।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

