এক কিশোরের বিদায়, অন্য প্রজন্মের চোখে বাঁধ ভাঙা জল! একটি নাম আজ ইতিহাস নয় অনুভূতি ও অনুপ্রেরণা!
দুর্গাপুর আজ যেন থমকে গেছে! শহরের ব্যস্ততা কোলাহল সবকিছুই যেন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক গভীর শোকের ভারে। মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোরের অকালে চলে যাওয়ায় স্তব্ধ গোটা শহর স্তব্ধ পাওয়ারলিফটিং মহল।

অভিমুন্য চ্যাটার্জি, সবার কাছে ‘কৃষ্ণ’ নামে বেশি পরিচিত। এক প্রাণবন্ত, হাসিখুশি আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী কিশোর। অল্প সময়ের মধ্যেই সে নিজের কঠোর পরিশ্রম নিষ্ঠা এবং অসাধারণ প্রতিভা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল সকলের হৃদয়। তা স্বপ্ন ছিল বড় — আর সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলেছিল দৃঢ় পদক্ষেপে।
হঠাৎই নেমে আসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ২৫ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে গুরুতরভাবে আহত হয় অভিমন্যু। এরপর শুরু হয় তার জীবন-মৃত্যুর লড়াই। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চলতে থাকে চিকিৎসা। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছিল উদ্বেগ, প্রার্থনা আর আশার মধ্যে দিয়ে। সকলেই অপেক্ষায় ছিল এক অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের।

কিন্তু সমস্ত প্রার্থনা ব্যর্থ করে সাতই এপ্রিল দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিট নাগাদ নিঃশব্দে থেমে যায় এক সম্ভাবনাময় জীবনের পথ চলা। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সুখের ছায়া নেমে আসে গোটা দুর্গাপুর জুড়ে। বুধবার দুপুরে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে শেষবারের মতন প্রিয় অভিমুন্য কে বিদায় জানাতে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ – খেলোয়াড়, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী। কারও চোখে জল, কারো মুখে অবিশ্বাস – চারিদিকে শুধুই নীরবতা আর বেদনার আবহ।
অভিমুন্য শুধু একজন খেলোয়ার ছিল না। সে ছিল এক স্বপ্ন, এক অনুপ্রেরণা, এক অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক। এত অল্প বয়সেই সে শিখিয়ে দিয়ে গেল — জীবনের মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং স্বপ্ন দেখা আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

তারই অকালে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা হয়তো কখনোই পূরণ হবে না তবুও তার স্মৃতি তার লড়াই আর তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি চিরকাল বেঁচে থাকবে সকলের হৃদয়ে।
“অভিমুন্য তুমি থেকে যাবে আমাদের অনুপ্রেরণায় আমাদের স্বপ্নে”!
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

