বুধবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর তানসের এলাকায় উত্তীর্ণগর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যখন গোপন বৈঠক করতে গিয়ে বিজেপি কর্মীদের হাতে পাকড়াও হন দুর্গাপুর এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রাজিব ঘোষ। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর বি-জোন ফাঁড়ির পুলিশ। এরপর পুলিশ তাঁকে আটক করে বি-জোন ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রাজিব ঘোষের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরিতার্থ করা এবং বিরোধী কর্মীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে একাধিক বিজেপি সমর্থককে ঘরছাড়া করা, হুমকি দেওয়া এবং অর্থ আদায়ের মতো ঘটনায় তার নাম জড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী বুধবার রাতে রাজিব ঘোষ গোপনে ইস্পাত নগরী তান্ত্রিক এলাকায় বিজেপির এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট বিজেপির নেতা দলের কর্মীদের খবর দেয়। এরপর দু’নম্বর মন্ডল বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত প্রধানের নেতৃত্বে যুব মোর্চার কর্মীরা এলাকায় জড়ো হয়ে তাকে ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় পুলিশের পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। দুর্গাপুর এক নম্বর মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক দিব্যেন্দু গায়েন বলেন, “২০২১ সালের ২মে-র পর এলাকায় বহু বিজেপি কর্মীর উপর অত্যাচার হয়েছে। অনেককে ঘরছাড়া করা হয়েছে, অনেকের কাছে টাকা তোলা হয়েছে। সেই সব ঘটনায় রাজীব ঘোষের নাম উঠে এসেছে। এখন পরিস্থিতি বদলাতে দেখে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। কিন্তু বিজেপিতে তাঁদের কোন জায়গা নেই”।

অন্যদিকে জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি স্বর্ণেন্দু হালদার বলেন, ” রাজীব ঘোষ এ দিন আমাদের দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার কনভেনরের কাছে গিয়ে আলোচনার কথা বলেন। সেই সময় আমাদের কনভেনার আমাদেরকে খবর দিলে আমরা সেখানে পৌঁছাই এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মতন ২০২১ এর পর যে সমস্ত তৃণমূল নেতা বা কর্মী বিজেপির ওপর অত্যাচার করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেইমতো তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়”।

সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি রাজীব ঘোষকে বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের কোলাহলে চরম উত্তেজনা ছড়ায় আদালত চত্বরে। আদালতের সামনে আগে থেকেই জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। নিরাপত্তার মধ্যেই রাজীব ঘোষকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে জুতো দেখিয়ে চোর চোর স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে আদালত চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়ন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। সামাল দিতে পুলিশ কি যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। জেলা বিজেপির মুখপাত্র। সুমন্ত মন্ডল অভিযোগ করেন, “তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ভয় দেখিয়েছে মানুষকে। গরিব মানুষের টাকা লুট করেছে। নির্বাচনের আগে এবং পরে হিংসার ঘটনা ঘটিয়েছে। এইসব লোককে কোমরে দড়ি পরিয়ে আনা দরকার। কিন্তু এত প্রতারণা করেছে যে চোরে পরিণত হয়েছে। সেই জন্যই মুখ ঢাকা দিয়ে নিয়ে আসতে হয়েছে”।

সব মিলিয়ে আটক তৃণমূল ব্লক সভাপতিকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলার সময় বিজেপি কর্মীদের ঘিরে কার্যত রনক্ষেত্রের চেহারা নয় আদালত চত্বর। তারা স্লোগান দেন- সন্ত্রাসের জবাব চাই, চোরকে শাস্তি দাও।

সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

