দু’ বালতি জলে উন্নয়নের বন্যা! ভোটের আগে জল বাহক প্রার্থীর আবির্ভাব! ভোট এই শব্দটাই যেন বাংলার রাজনীতিতে এক অদ্ভুত জাদু। নির্বাচন এলেই হঠাৎ করেই জনসভার ঝাঁপি খুলে যায়। কেউ রুটি বেলেন, কেউ চপ ভাজেন, আর কেউ বা দাড়ি কামিয়ে দেন। তবে দুর্গাপুরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে রবিবার সকালে যা ঘটলো তা নিঃসন্দেহে ‘বালতি বিপ্লব’ নামে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে।

ভোট মানেই প্রতিশ্রুতি, আর প্রতিশ্রুতি মানেই উন্নয়নের ছবি। কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি সীমাবদ্ধ থাকে দু’ বালতি জলের মধ্যে? দুর্গাপুরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এবার দেখা গেল এক অভিনব জনসেবা। যা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

রবিবার সকালে দুর্গাপুরের নিশান হাট বস্তিতে হঠাৎই রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রচারে বেরিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই এর চোখে পড়ে এক বৃদ্ধা দু’ বালতি জল নিয়ে কষ্টে হাঁটছেন। আর তখনই যেন জেগে ওঠে প্রার্থীর জনসভার তাগিদ। তিনি নিজেই বালতি হাতে নিয়ে পৌঁছে দেন বৃদ্ধার বাড়ির ভিতর পর্যন্ত।
এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক বার্তা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন জিতলে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে জল। “সরকার জল দিতে পারেনি তাই আমাকে দিতে হচ্ছে আমরা ক্ষমতায় এলে এই সমস্যা থাকবে না।”

অন্যদিকে এই ঘটনা কে হাতছাড়া করেনি তৃণমূল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি এরা নিছকই ভোটের আগে নাটক। তৃণমূল নেতা উত্তম মুখোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন — বাড়িতে জল বওয়ার লোক লাগলে বিজেপির প্রার্থীকে ডাকুন, হোম ডেলিভারি পাবেন। এই ঘটনা প্রসঙ্গে দুর্গাপুর পশ্চিমে তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত বলেন, দু’ বালতি জলে কি সমস্যার সমাধান হয়, এতদিন কোথায় ছিলেন?

এর মাঝেই পরিস্থিতি আরো গরম হয়ে ওঠে বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের পাল্টা তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান মুহূর্ত গলি নিশান হাট বস্তির গলি পরিণত হয় শ্লোগানের স্টেডিয়ামে। শেষমেষ পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দু’ বালতি জল হয়তো এক মুহূর্তের সহানুভূতি দেখাতে পারে, কিন্তু এলাকার দীর্ঘদিনের জল সমস্যার সমাধান নয়। ভোটের আগে এই ধরনের প্রতীকি উদ্যোগ কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
ভোটের আগে জনসংযোগ নাকি রাজনৈতিক নাটক তার বিচার করবেন ভোটাররা। আপাতত দুর্গাপুরে ‘বালতি রাজনীতি’ নিয়েই সরগরম নির্বাচনী প্রচার।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

