পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর থানার অন্তর্গত শ্যামলা অঞ্চলের ভুঁড়ি – ফরফরি অজয় ঘাটে দীর্ঘদিন ধরেই অবাধে চলছে বালি পাচারের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে অজয় নদ থেকে ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে দিনরাত নির্বিচারে তোলা হচ্ছে বালি। সরকারি নিয়ম ও রাজস্বকে উপেক্ষা করে এই বালি বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসীদের দাবি রাতের অন্ধকারই হোক বা দিনের আলো — প্রায় প্রতিদিনই ছোট ছোট স্থানীয় বালিমাফিয়ারা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নদী থেকে বালি তুলছে। কখনো ট্রাক্টরে সরাসরি বাড়িতে রয়েছে আবার কখনো নদীর ধারে বা আশেপাশে এলাকায় সেই বালি মজুদ করে পরে ট্রাকে করে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ট্রাকগুলিতে ‘ইসিএল’ বোর্ড লাগানো থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

এই অবৈধ বালি পাচারের ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। ভুঁড়ি – ফরফরি গ্রামে থেকে অজয় নদে যাওয়ার প্রধান রাস্তার দুই পাশে থাকা কৃষি জমিতে ট্রাক্টর ও ট্রাক চলাচলের সময় উড়ে আসা বালি, ধুলো ফসলের ক্ষতি করছে বলে দাবি করেছেন কৃষিজীবী মানুষজন। এর ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবৈধ বালির কারবার প্রসঙ্গে শ্যামলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অসিত মন্ডল বলেন, কেউ যদি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালি পাচার করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে, তাহলে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। খুব শীঘ্রই শ্যামলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনকে জানানো হবে।

তিনি আরো জানান এই পাচার চক্রে যদি কোন স্থানীয় নেতা যুক্ত থাকেন তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হবে, প্রয়োজনে বড় ধরনের আন্দোলনের নামারও হুঁশিয়ারি দেন পঞ্চায়েত প্রধান।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার সংবাদ মাধ্যমে এই অবৈধ বালি পাচারের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। হলে এখন এলাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি এই বালি পাচার চক্রের পিছনে প্রভাবশালী কোন মোহলের মদত রয়েছে??
এখন এই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে এলাকা…
রাকেশ লাহা, Lcw India জামুরিয়া

