আট বছর আগের এক রাজনৈতিক খুনের স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার জঙ্গলমহল এলাকাকে। সময়টা ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর, বিজেপির বুথ সভাপতি সন্দীপ ঘোষ দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ সেদিন দলের বৈঠক সেরে বাড়ি ফিরছিলেন সন্দীপ ঘোষ ও তার কয়েকজন সঙ্গী। সরস্বতীগঞ্জ গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় আচমকাই রাস্তা আটকে হামলা চালায় প্রায় ৪০ জন দুষ্কৃতী।

লাঠি রড এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চলে বেধড়ক মারধর। প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলে সন্দীপ ঘোষের ঘাড়ে গুলি লাগে। গুরুতর যখন অবস্থায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, শেখ সাইফুল সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সেই সময় বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের মদতেই এই খুন সংগঠিত হয়েছিল। ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঁকসা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। বুধবার শহিদ পরিবারের বাড়িতে যান বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জানান,” মামলা পুনরায় খোলা হবে এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবিতে দল আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে।”

এই ঘোষণার পর কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সঞ্জীব ঘোষের বাবা বিজয় ঘোষ ও মা। ছেলের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে তারা বলেন, “চাপা কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বের কথা শুনে মনে হচ্ছে দোষীরা শাস্তি পাবে। তবে আমরা চাই সিবিআই তদন্ত হোক। যেদিন দোষীদের শাস্তি হবে সেদিনই আমাদের সত্যিকারের শান্তি মিলবে।”

এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য সময় যতই পেরিয়ে যাক সন্দীপ ঘোষের মৃত্যুর বিচার না হলে ক্ষত কখনো পূরণ হবে না। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।।
ব্যুরো রিপোর্ট, Lcw India কাঁকসা

