দুর্গাপুরের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুকে বিশ্বনাথ পারিয়ালের দল বদল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর আবারও শিবির পরিবর্তন করে তিনি যোগ দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে। এই ঘটনাটির ঘিরেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন – এটা কি আদর্শগত অবস্থান, নাকি শুধু রাজনৈতিক সুবিধাবাদ?

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি চারবারের কাউন্সিলর এবং কংগ্রেসের টিকিটের বিধায়ক থাকা ভেষজ দুর্গাপুর পরিচিত মুখ। তার স্ত্রী আলো দুর্গাপুর নগর নিগমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ফলে এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার কাছাকাছি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনা কার্যত ইঙ্গিত দিয়েছিল এই পরিবর্তনের। নতুন দলে যোগদানের পর পারিয়ালের বক্তব্যে উঠে আসে – “রাজ্য উন্নয়ন ব্যাহত, নারী সুরক্ষা প্রশ্নের মুখে, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে এই কারণে তিনি বিজেপিকে যোগ দিয়েছেন।”

এই যোগদান কে স্বাগত জানিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিজেপি সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ করে দাবি করেন, দলটি এখন সীমিত কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সেই দিন আসছে এখানে কৃষির ভাইকে ছাড়া আর কেউ থাকবে না।”

বিশ্লেষকদের মতে এই দলবদল শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নয় বরং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ বদরের একটি বার বার জল পরিবর্তন হয়ে পড়ে জনমানষে নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা প্রভাবিত হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিশ্বনাথ এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রা আদর্শের লড়াই নাকি ক্ষমতার কাছে থাকার কৌশল – তার উত্তর দেবে সময়ই। তবে আপাতত দুর্গাপুরের রাজনীতিতে এই ঘটনার এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।।
সমরেন্দ্র দাস, Lcw India দুর্গাপুর

